সুবাসিত সেই বিকেল



দশম শ্রেণি—জীবনের এমন এক সময়, যখন মন থাকে খুব আবেগপ্রবণ। আকাশ আর মেধা একই শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। আকাশ ছিল অত্যন্ত সংযত স্বভাবের ছেলে, আর মেধা ছিল নম্র ও মার্জিত। ক্লাসের ভিড়ে আকাশ মেধাকে লক্ষ করত, কিন্তু তার মধ্যে কোনো অস্থিরতা ছিল না। সে মনে করত, কোনো মানুষের প্রতি ভালোলাগা থাকলেও তা যেন হয় আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির পরিপন্থী না হয়।

আকাশের বন্ধু ফাহিম একবার তাকে বলল, "আকাশ, তুই তো মেধাকে পছন্দ করিস, কিন্তু এইভাবে আড়চোখে না তাকিয়ে বরং ভবিষ্যতে সব কিছু সঠিক পথে করার চেষ্টা কর।" ফাহিম জানত যে, আবেগের বশে ভুল পথে পা না দিয়ে, একে অপরকে জানাশোনার জন্য ইসলামের সীমানার মধ্যে থাকাই শ্রেয়। ফাহিমই মেধার বান্ধবীদের মাধ্যমে মেধার পরিবারের সম্মতির কথা চিন্তা করে একটি যোগাযোগের মাধ্যম তৈরি করে দিল।

 আকাশ আর মেধার চ্যাটিং বা যোগাযোগ ছিল খুবই মার্জিত। সেখানে অপ্রয়োজনীয় কোনো কথা ছিল না। বরং তারা একে অপরকে পড়ালেখায় এবং ভালো কাজে উৎসাহ দিত। একবার স্কুলের একটি প্রজেক্ট নিয়ে মেধা খুব চিন্তায় ছিল। আকাশ তাকে সমাধান করার জন্য কিছু ভালো বইয়ের নাম আর টিপস লিখে দিল। মেধা বুঝতে পারল, আকাশ তাকে কতটা শ্রদ্ধা করে। সে জানত যে, যে ছেলেটি তার সম্মান রক্ষায় এতটা সচেতন, সে কখনো তার মনে কষ্ট দেবে না।

 স্কুলের বার্ষিক উৎসবের সময় আকাশ আর মেধা মুখোমুখি হলো। চারপাশটা ছিল উৎসবমুখর। আকাশ খুব বিনয়ের সাথে মেধার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, "আমি জানি আমাদের বয়স এখনো খুব কম। আমি এখনই কোনো ভুল পথে পা বাড়াতে চাই না। আমি শুধু চাই, ভবিষ্যতে আমরা যেন একে অপরের জন্য ভালো জীবনসঙ্গী হতে পারি। আমি এখন থেকে নিজের ক্যারিয়ারের জন্য কঠোর পরিশ্রম করব, যাতে যোগ্য হয়ে তোমার পরিবারের কাছে প্রস্তাব নিয়ে যেতে পারি।"

মেধা আকাশকে খুব পছন্দ করত তার সততা আর ভদ্রতার জন্য। সে মৃদু হেসে বলল, "আমি তোমার এই চিন্তার কদর করি। পড়াশোনা শেষ করো, আল্লাহ্‌ যা কবুল করেছেন তা নিশ্চয়ই সময়মতো হবে। আমি তোমার জন্য দোয়া করব।"

 সেই বিকেলে তারা কোনো নিষিদ্ধ সম্পর্কে জড়ায়নি, বরং একে অপরের জন্য শুভকামনা জানিয়েছিল। স্কুল জীবন শেষ হলো, সময়ের সাথে সাথে আকাশ তার লক্ষ্যে সফল হলো। মেধা তার পড়াশোনা শেষ করল। পরিশেষে, আকাশ তার পরিবারের মাধ্যমে মেধার পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাল।

দুই পরিবারের সম্মতিতে এক পবিত্র বন্ধনে তারা আবদ্ধ হলো। দশম শ্রেণির সেই ভালোলাগা শেষ পর্যন্ত এক সুন্দর ও সার্থক পরিণতির দিকে এগিয়ে গেল। তাদের এই যাত্রা আমাদের শেখায় যে, সত্যিকারের ভালোবাসা তখনই পূর্ণতা পায় যখন তা ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর ভরসার মাধ্যমে বজায় রাখা হয়।




                                                        Written by—Tihan

Previous Post Next Post