রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র মাহে রমজান আমাদের দ্বারে সমাগত। আজকের এই সন্ধ্যাটা অন্য সব সাধারণ সন্ধ্যার মতো নয়। যখন পশ্চিম আকাশে রমজানের নতুন চাঁদ উঁকি দেয়, তখন থেকেই শুরু হয় এক বিশেষ অধ্যায়। আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জান্নাত সাজানো হয় এবং শয়তানকে শিকলবন্দী করা হয়।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—আমরা কি মানসিকভাবে এই পবিত্র মাসের জন্য প্রস্তুত? আমাদের এই প্রস্তুতি যেন শুধু সেহরি আর ইফতারের আয়োজনে সীমাবদ্ধ না থাকে। চলুন জেনে নিই এই রমজানে একজন মুমিন হিসেবে আমাদের করণীয় কী হতে পারে।
১. অন্তরের পরিচ্ছন্নতা ও তওবা
রমজানের প্রথম ধাপই হলো নিজের অন্তরকে গুনাহমুক্ত করা। গত ১১ মাসের ভুল-ত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে খাঁটি মনে তওবা করুন। চোখের দু-ফোঁটা পানি আপনার অতীতের সব গুনাহ মুছে দিতে পারে। মনে মনে দৃঢ় সংকল্প বা নিয়ত করুন যে, এই রোজা শুধু না খেয়ে থাকার জন্য নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং তাকওয়া অর্জনের জন্য ।
২. ডিজিটাল ডিটক্স ও গুনাহ বর্জন
ফেসবুক, ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়ার স্ক্রলিং আসক্তি আমাদের ইবাদতের বড় বাধা। আজই আপনার ফোনটি পরিষ্কার করুন। এমন সব অ্যাপ বা গ্রুপ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিন যা আপনার ঈমানকে দুর্বল করে। মনে রাখবেন, রমজান শুধু পেট নয়, বরং চোখ, কান এবং জবানকেও গুনাহ থেকে দূরে রাখার নাম।
৩. সময়কে কাজে লাগানো (রুটিন পরিকল্পনা)
রমজানে সময়ের সঠিক বণ্টন অত্যন্ত জরুরি:
সেহরি ও তাহাজ্জুদ: সেহরি খাওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে উঠুন। এই সময়টি দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়। তাহাজ্জুদে আল্লাহর কাছে প্রাণ খুলে আপনার অভাব-অভিযোগের কথা বলুন
তারাবি ও তেলাওয়াত: সারাদিনের ক্লান্তির অজুহাতে তারাবি নামাজে আলসেমি করবেন না। প্রতিদিন অন্তত কয়েক পৃষ্ঠা করে কোরআন পড়ুন যাতে পুরো মাসে অন্তত একবার খতম করা যায়
ইফতারের পূর্ব মুহূর্ত: ইফতারের আগের সময়টি দোয়া কবুলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সব কাজ ফেলে এই সময় ইবাদতে মশগুল থাকুন
৪. খাবারের উৎসব নয়, ইবাদতের উৎসব
আমরা অনেকেই ইফতারের পেছনে এত সময় ব্যয় করি যে মাগরিবের প্রস্তুতি বা যিকিরের সময় পাই না। রমজানকে খাবারের উৎসবে পরিণত করবেন না। সাদামাটা ইফতারেও অনেক বরকত আছে যদি তাতে শুকরিয়া থাকে।
৫. গীবত ও পরচর্চা থেকে সাবধান
রোজা রেখে মিথ্যা কথা বলা বা অন্যের সমালোচনা করা রোজার আত্মাকে মেরে ফেলে কেউ ঝগড়া করতে এলেও নিজের সংযম বজায় রাখুন এবং মনে মনে বলুন, "আমি রোজা রেখেছি"।
বিশেষ দিনগুলোতে নারীদের আমল
মা-বোনদের পিরিয়ড বা বিশেষ দিনগুলোতে নামাজ-রোজা বন্ধ থাকলেও জিকির, ইস্তেগফার ও কোরআন শোনার সুযোগ আছে। পরিবারের জন্য রান্না করাও একটি বড় ইবাদত যদি তা রোজাদারদের খেদমতের নিয়তে হয়
উপসংহার
হয়তো এটাই হতে পারে আপনার জীবনের শেষ রমজান। তাই প্রতিটি মুহূর্তকে জান্নাতের জন্য বিনিয়োগ করুন। আসুন, এই রমজানকে আমরা আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ রমজান হিসেবে গড়ে তুলি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করুন। আমিন।
